ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মাঝে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের! দিল্লি-কাবুলে একযোগে হা/মলার ইঙ্গিত?

ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মাঝে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের! দিল্লি-কাবুলে একযোগে হা/মলার ইঙ্গিত?

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল পাকিস্তান। দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রয়োজন হলে নয়াদিল্লি ও কাবুল দুই রাজধানীকেই নিশানা করা হতে পারে।

এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসবাদের নামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নাকি “ছায়াযুদ্ধ” চালানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে বিমানবাহিনী ব্যবহার করতে প্রস্তুত ইসলামাবাদ। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই উপমহাদেশে কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক শক্তির দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরে থাকতেই আঞ্চলিক সমীকরণে চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে এই হুঁশিয়ারি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অর্জনের প্রচেষ্টাও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগর এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বলে জানা যায়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

এদিকে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের পক্ষে একসঙ্গে দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। কারণ, এতে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হবে। তাছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সীমান্ত উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চাপও ইসলামাবাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Category