ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দ্রুত অস্থায়ী নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত জানাল তেহরান। আপাতত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফিকে। তিনি এতদিন ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান কড়া বার্তা দিয়েছেন আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে। তাঁর বক্তব্য, এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের “বৈধ অধিকার” এবং “অবিলম্বে পালনীয় কর্তব্য”। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পর থেকেই প্রশাসনিক ও সামরিক স্তরে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। মন্ত্রী ও গভর্নরদের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক কাজে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকাঠামোর শীর্ষস্তর থেকেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি জানিয়েছেন, ইরান এমন পদক্ষেপ নেবে যা প্রতিপক্ষ আগে কখনও দেখেনি। ইতিমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই হুঁশিয়ারির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করলে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর জবাব দেবে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
- Log in to post comments