গুরুতর যুদ্ধবিমান সংকটে ভুগছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। ক্রমশ কমতে থাকা স্কোয়াড্রন শক্তির জেরে উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিরক্ষা মহলে। এই পরিস্থিতিতে ফের ফ্রান্সের সঙ্গে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে নয়াদিল্লি। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, ফলো-অন রাফাল চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে কথাবার্তা জোরদার হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই এই আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে দুই দেশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই আলোচনা কোনও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নয়, সরাসরি ভারত সরকার ও ফ্রান্স সরকারের মধ্যে হচ্ছে যা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অনুমোদিত স্কোয়াড্রন শক্তি ৪২.৫ হলেও বাস্তবে তা নেমে এসেছে মাত্র ২৯-এ। চিন ও পাকিস্তান দু’টি সক্রিয় সীমান্তকে মাথায় রেখে এই ঘাটতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের মতে, গত বছর মিগ-২১ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণভাবে অবসর নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অপারেশন ‘সিন্দুর’-এর সময়ও এই ঘাটতির প্রভাব কিছুটা চোখে পড়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমানের সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় বিকল্প হিসেবে রাফালের উপর নির্ভরতা বাড়ছে।
ইতিমধ্যেই ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৪টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতাও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL) ও ডাসাল্ট এভিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে হায়দ্রাবাদে রাফাল বিমানের ফিউজলেজ তৈরির একটি প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের শুরু থেকেই এই কারখানা যন্ত্রাংশ সরবরাহ শুরু করবে যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।
যদিও এই মুহূর্তে আলোচনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এখনই কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। চূড়ান্ত চুক্তির আগে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (DAC)-এর অনুমোদন, ব্যয় সংক্রান্ত আলোচনা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (CCS) সবুজ সংকেত প্রয়োজন হবে।
এই বিষয়ে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং প্রকাশ্যেই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মিগ-২১-এর মতো পুরনো যুদ্ধবিমান অবসর নেওয়ার ফলে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা তেজস এমকে-১এ প্রকল্পে দেরির কারণে আরও তীব্র হয়েছে। সেই কারণেই রাফালের মতো প্রমাণিত যুদ্ধবিমানের উপর বিমান বাহিনীকে বাড়তি ভরসা করতে হচ্ছে।
- Log in to post comments