হুগলির উত্তরপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা হিন্দমোটর কারখানা চত্বরে এক নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৬ বছরের এক কিশোরী এই ঘটনার শিকার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজন দীপঙ্কর অধিকারী ওরফে সোনাই। তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, নাবালিকাটি এক বন্ধুর সঙ্গে ওই পরিত্যক্ত কারখানা এলাকায় গিয়েছিল। সেই সময় অভিযুক্ত ও তার সঙ্গীরা তাদের পথ আটকায়। অভিযোগ, দীপঙ্কর নিজেকে সিভিক ভলান্টিয়ার পরিচয় দিয়ে কর্তৃত্ব দেখানোর চেষ্টা করে এবং ভয় দেখিয়ে কিশোরটিকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর নির্জন এলাকায় নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতে তার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ধৃত দুই অভিযুক্তকে শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও এক ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপির অভিযোগ, ধৃত যুবক তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এমন অপরাধ করার সাহস পেয়েছে। বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, অভিযুক্তকে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে দেখা গেছে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ খারিজ করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে দলের কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের বক্তব্য, অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং দল আইনের পথেই চলার পক্ষে।
ঘটনাটি নিয়ে বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের সক্রিয়তা কতটা কার্যকর। যদিও রাজ্য সরকার এখনও এই বিষয়ে আলাদা কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
- Log in to post comments