ভারতে সমাজমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আনার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবনাচিন্তা শুরু করল কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক। সংসদে পেশ হওয়া সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এই সংক্রান্ত ইঙ্গিত মিলেছিল। বৃহস্পতিবার তথ্যপ্রযুক্তি সচিব জানান, বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব খতিয়ে দেখে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনে অনলাইন আসক্তি কমানোর লক্ষ্যে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছিল। তার মধ্যে অনলাইনে ক্লাসের সংখ্যা কমানো এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নির্দিষ্ট বয়স-সীমা নির্ধারণের কথা উল্লেখ ছিল। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মানসিক সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সম্প্রতি গাজিয়াবাদে অনলাইন গেম ও ডিজিটাল আসক্তির জেরে তিন নাবালিকার আত্মহত্যার ঘটনার পর এই বিষয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সমাজমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে শিশুদের মধ্যে হিংসা, অস্বাভাবিক আচরণ এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের মতো দেশ ইতিমধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে সমাজমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ জারি করেছে। একই পথে এগোচ্ছে ইংল্যান্ডও। সেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ভারতেও শিশুদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মতামত নেওয়া হবে। সব দিক বিচার করেই সমাজমাধ্যম ব্যবহারে বয়স-সীমা সংক্রান্ত নীতি চূড়ান্ত করা হবে।
- Log in to post comments