আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় নাটকীয় মোড়। যে আখতার আলি প্রথম প্রকাশ্যে এই দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন, সেই তিনিই এখন অভিযুক্তের তালিকায়। আলিপুরের সিবিআই আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দিয়েছে।
সিবিআই সূত্রে জানা যায়, আরজি করের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে একাধিক চার্জশিট জমা পড়েছে। সাম্প্রতিক অতিরিক্ত চার্জশিটে আখতার আলির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন তিনিও আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়েছিলেন। আদালতে হাজিরার জন্য একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি সশরীরে উপস্থিত হননি।
এর মধ্যেই আখতার আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন, কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আদালতে তাঁর আইনজীবী জানান, আখতার অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন থাকায় হাজিরা দিতে পারছেন না। তবে বিচারক এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি। আদালতের পর্যবেক্ষণ চিকিৎসকের বিশ্রামের পরামর্শ থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি থাকা আদৌ জরুরি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সিবিআইয়ের দাবি, অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবেই তিনি হাজিরা এড়াচ্ছেন।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ জেল হেফাজতে রয়েছেন। শুক্রবার আদালতে তাঁর আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন একই অভিযোগে একজন কারাগারে থাকলে, অন্যজন কীভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করেও রেহাই পান? সেই যুক্তির প্রেক্ষিতেই বিচারক আখতার আলির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
সিবিআইয়ের চার্জশিট অনুযায়ী, আরজি কর কাণ্ড জাতীয় শিরোনামে আসার পর আখতার দুর্নীতির পর্দাফাঁস করলেও নিজের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দীপ ঘোষের আগেও তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অনিয়মে অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে, অভিযোগকারী থেকে অভিযুক্ত আরজি কর দুর্নীতি মামলায় আখতার আলির অবস্থান এখন সম্পূর্ণ বদলে গেল।
- Log in to post comments