নারাভানের বিতর্কিত বই হাতে সংসদে মোদীকে দেবেন রাহুল গান্ধী

নারাভানের বিতর্কিত বই হাতে সংসদে মোদীকে দেবেন রাহুল গান্ধী

প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল নারাভান-এর অপ্রকাশিত বই থেকে ডোকলাম ইস্যু নিয়ে বক্তব্য রাখতে চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। তবে সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চের আপত্তির কারণে তিনি তখন তার বক্তব্য পেশ করতে পারেননি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় রাহুল এই বই ও তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানিয়েছেন এবং বলেছেন, বুধবার তিনি এই বই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে তুলে দেবেন।

রাহুল বলেন, “ভারতের তরুণদের জানা উচিত মিস্টার নারাভানের এই বই। এতে লদাখের ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, আমি সংসদে এই উদৃতি দিতে পারব না। মূল বক্তব্য হল, প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, ‘যা মনে হয় তাই করো’।”

তিনি আরও জানান, প্রাক্তন সেনাপ্রধান রাজনাথ সিংজিকে ফোন করেছিলেন, কারণ চীনা ট্যাঙ্ক কৈলাশ রিজিয়নে পৌঁছেছিল। প্রথমবার রাজনাথ কোনো উত্তর দেননি। পরে জয়শঙ্কর, NSA ও রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে যোগাযোগের পরও কোনো সমাধান পাননি।

রাহুলের ব্যাখ্যা, “উপরের মহলের নির্দেশ ছিল, চীনা বাহিনী ঢুকলেও অনুমতি ছাড়া গুলি চালানো যাবে না। নারাভান ও সেনাবাহিনী চাইছিল, কারণ তারা আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করছিল। তবে নরেন্দ্র মোদীজি তখন কোনো কার্যকর নির্দেশ দেননি, যা সেনাপ্রধানকে একা ও অসহায় করে দিয়েছে। নারাভান ভীষণ একা অনুভব করেছিলেন এবং পুরো ব্যবস্থাই তাকে পরিত্যাগ করেছিল।”

রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে বলেন, “আমি মনে করি না প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় আসার সাহস দেখাবেন। তবে যদি আসেন, আমি নিজে গিয়ে তার হাতে এই বই তুলে দেব, যাতে তিনি পড়ে সত্যটা জানতে পারেন।”

সোমবার সংসদে রাহুলের বক্তব্য মুলতুবি হয়। স্পিকার ওম বিড়লা এবং পরে চেয়ারপারসন জগদম্বিকা পাল জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশিত না হওয়া বই থেকে বক্তব্য দেওয়া যাবে না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই যুক্তি তুলে বলেন, প্রকাশিত নয় এমন বইয়ের অংশ সংসদে পড়া যায় না।

Category