পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে SIR (ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ তদন্ত) মামলায় তার যুক্তি তুলে ধরলেন, যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের ঘটনা।
শুনানিতে মমতা অভিযোগ করেন, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে তীব্র সমালোচনা করে এটিকে “হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন” বলে আখ্যায়িত করেন।
মমতা বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশনকে ছয়টি চিঠি লিখেছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। আমি আমার দলের জন্য লড়ছি না, আমি একজন সাধারণ নাগরিক। ন্যায়বিচারের দরজা অবহেলায় কাঁদছে।” এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক পরিবর্তনকেও ভুল বা মিল না থাকার হিসাবে দেখানো হচ্ছে।
মমতার আবেদন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করেছে এবং ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের উত্তর দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরে আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর পয়েন্টগুলির সঙ্গে বেঞ্চ কার্যত একমত। ছোটখাটো ভুলের কারণে কাউকে ডাকা না হোক, শুধু মৃত বা অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হোক।”
শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, “আমরা অনেক চিঠি লিখেও পর্যাপ্ত অফিসার পাইনি, তাই বাধ্য হয়ে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্য সহযোগিতা করছে না।”
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলা ভাষা বুঝতে পারা গ্রুপ-বি অফিসারের তালিকা জমা দিক। পাশাপাশি কমিশনকে বলা হয়েছে, ছোটখাটো বানান ভুলের কারণে কাউকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে সোমবার।
- Log in to post comments